টাঙ্গাইলে মাকে হত্যার দায়ে ছেলে জহিরুল ইসলামকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে আদালত।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জহিরুল টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দুয়াজানী (মধ্যপাড়া) গ্রামের মরহুম আব্দুল মিয়ার ছেলে।
অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, নাগরপুরের বঙ্গ বকুটিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নূরবানু (৪২) তার তিন ছেলেকে নিয়ে দুয়াজানী মধ্যপাড়া গ্রামে বাস করতেন। নূরবানুর প্রথম স্বামী আব্দুল মিয়ার মৃত্যুর পর তিন ছেলেসহ বাবুল মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়।
গত ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে মেঝছেলে জহিরুল তার মাকে নিজ বাড়িতে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ওইদিনই নূরবানুর দ্বিতীয় স্বামী বাবলু নাগরপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পরপরই জহিরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
নাগরপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মনোয়ার হোসেন ২০২২ সালে ২৮ মে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। রোববার আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেফতারের পর থেকেই আসামি জেলহাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামি উল্লেখ করেন, ‘আমার মা ২০১১ সালে আমার বাবাকে বিষ খাওয়াইয়া মারছে। আমার বাবাকে মারার পরে বাবলুকে বিয়ে করে। আমার মা এবং বাবলু মিলে আমাকে মারতে চায়। তাই আমি আমার মাকে লাঠি দিয়ে মারছি।’



