কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মো: দুধ মিয়া (৭০) নামে এক রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের মনিপুর এলাকার একটি ফিশারির পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুধ মিয়া মনিপুর গ্রামের মরহুম নুরু মিয়ার ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালাতেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুধ মিয়া পার্শ্ববর্তী কাবিলা কাজীর দোকান এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছেন বলে মোবাইলফোনে মেয়েকে জানান। এরপর থেকেই তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সারারাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন তার মেয়ে হনুফা আক্তার বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি নির্জন ফিশারির পুকুরে ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বুড়িচং থানার আওতাধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন।
এসআই মঞ্জুর রহমান জানান, লাশের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুই-তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় লাশ ফুলে গেছে এবং পচন ধরেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মোকাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন, দুধ মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ ছিলেন। রিকশা চালিয়েই সংসার চলত। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির অদূরের একটি নির্জন ফিশারির পুকুরে তার লাশ পাওয়া যায়।
এদিকে, দুধ মিয়ার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



