সোনাগাজীতে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই দুই বাড়িতে ৭০-৮০ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দু’টি বাড়িঘর ও একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা ও ভাঙচুর করে খড়ের গাধায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় তারা।

সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা

Location :

Sonagazi
বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য
বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব সুজাপুর গ্রামে মৎসঘের নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা বাহার মেম্বারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সন্ত্রাসীরা দু’টি বাড়ির তিনটি বসতঘর, একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানোসহ তিনটি খড়ের গাদায় আগুন দেয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ইউনিয়নের পূর্ব সুজাপুর গ্রামের বিএনপি নেতা বাহার মেম্বারের বাড়ি ও তার পোলট্রি খামার ও যুবলীগ নেতা মিস্টারের বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ওই দুই বাড়িতে ৭০-৮০ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দু’টি বাড়িঘর ও একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা ও ভাঙচুর করে খড়ের গাধায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় তারা প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।

জানা যায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সোনাগাজী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিরাজুল ইসলামের সাথে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা বাহার উল্লাহর ছেলেদের মৎসঘেরের টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় হামলার শিকার হন সিরাজুল ইসলাম ও আলাউদ্দিন নামে যুবদল কর্মী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একইদিন রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়ে অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত হয়ে সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার বাহার উল্যাহ ও তার চাচাতো ভাই সিরাজের দু’টি বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর লুটপাট করে এবং বাড়ির দরজায় থাকা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাহার উল্যার পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একই সময়ে সোলেমানের বাড়ির যুবলীগ নেতা মিস্টারের বসতঘরেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। যাওয়ার সময় তারা একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সিরাজুল ইসলাম জানান, মৎসঘের নিয়ে কথা অনুযায়ী তারা আমাকে আগে তিন লাখ টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা দেয়ার জন্য ডেকে নিয়ে শিমুল আমাদের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা করে এবং আমাকে ও আলাউদ্দিনকে গুরুতর জখম করে। তাদের বাড়িঘরে কারা হামলা করেছে আমরা জানি না এবং এতে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বার বাহার উল্লাহ ও তার ছেলে শিমুল জানান, সিরাজুল ইসলামকে মৎস্যঘের চাষাবাদ নিয়ে তিন লাখ টাকা দিয়েছি। সে এখন আমাদের কাছে আরো টাকা দাবি করে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হলে সে এবং তার ভাই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িঘর, ব্যবসা-বাণিজ্যে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম জানান, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। ঘটনাটি শুনেছি, ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।