ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কলেজ ছাত্র নাহিয়ান রবিন (২৩) হত্যার ঘটনায় রাজিব (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে গোপন সংবাদে ভিত্তিতে পৌর শহরের মোতালেব প্লাজা থেকে রাজিবকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানান।
সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাতে পৌর এলাকায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শিলাসী মাজারবাড়ি রোডের কলাবাগান এলাকায় দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন কলেজ ছাত্র নাহিয়ান রবিন। সে পৌর শহরের শিলাসী কলাবাগান এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের একমাত্র ছেলে এবং কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পশু হাসপাতাল রোডস্থ
বউবাজারে একটি দোকানে জন্মদিন পালন শেষে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন নাহিয়ান রবিন।
এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে অতর্কিত প্যাকেট জাত মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় চোখে-মুখে। কিছু বুঝে উঠার আগেই দুর্বৃত্তরা রড, পাইপ ও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে এবং সাথে সাথেই তারা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায়।
পরে আহত অবস্থায় মাসুম দৌড়ে পালিয়ে গেলেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে নাহিয়ান রবিনকে রাস্তায় উপর ফেলে চলে যায় তারা।
পরে চিৎকার ও আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় নাহিয়ান রবিনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করার পর ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের বন্ধু মাসুম। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলেছে। আমার বুক খালি করে দিয়েছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
তার মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি জানান।
গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসম আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজিব নামে এক যুবককে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রস্তুতি চলছে।



