ফুলবাড়িয়ায় নদীভাঙনে অর্ধেক ভিটা বিলীন, আতঙ্কে পরিবার

পরিবারটির দাবি, সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবহেলার কারণেই আজ তারা সর্বস্ব হারানোর মুখে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরীপুর গ্রামে আখালিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে কৃষক আব্দুল রহিমের পৈতৃক বসতভিটার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ১৪ সদস্যের পরিবারটির।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি খাল খননের সময় উত্তোলিত মাটি দিয়ে নদীতীরে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা ছিল অপরিকল্পিত ও দুর্বল। বর্ষার পানির প্রবল স্রোতে সেই বাঁধ কার্যকর না হওয়ায় নদীভাঙন দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এরই খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের।

কৃষক আব্দুল রহিম বলেন, ‘ছয় ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ ১৪ সদস্যের সংসার নিয়ে বহু বছর ধরে এই পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছি। খাল খননের সময় বাড়ি রক্ষার কথা বলেছিলাম, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন চোখের সামনে ভিটামাটি নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে।’

তার বড় ছেলে খোকা বলেন, ‘জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে বাড়িটি করেছি। প্রতিদিন একটু একটু করে ভাঙন বাড়ছে। মনে হচ্ছে, শেষ আশ্রয়টুকুও যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যাবে।’

পরিবারটির দাবি, সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অবহেলার কারণেই আজ তারা সর্বস্ব হারানোর মুখে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরো ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বহু বসতবাড়িও ঝুঁকিতে পড়বে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা, নদীতীর সংরক্ষণ, টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং খাল খননকাজে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগই পারে আখালিয়া নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে।