ইতালি নেয়ার কথা বলে আলভী খান নামে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলার প্রধান আসামি রাতুল হাওলাদারকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার রাতুল ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ধুলগ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের ছেলে।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী আলভী খান সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া গ্রামের এমদাদ হোসেন খানের ছেলে।
স্বজনরা জানায়, আলভীকে সরাসরি বিমানে করে ইতালি নেয়ার প্রলোভন দেখায় মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য রাতুল হাওলাদার। রাতুলের প্রস্তাবে আগ্রহী হয়ে ২১ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার চুক্তি করে আলভীর পরিবার। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চুক্তির ২১ লাখ টাকার পুরোটাই পরিশোধ করে। এর চারদিন পর ১৯ অক্টোবর আলভীকে বিমানে সৌদি আরব নিয়ে যায় রাতুলসহ দালালচক্রের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে দালালচক্র তাকে লিবিয়ায় নিয়ে বন্দী করে নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের অডিও ভয়েস পাঠিয়ে পরিবার থেকে চাওয়া হয় মুক্তিপণ। বাধ্য হয়ে আলভীর পরিবার ৪ নভেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়। এরপর আরো মুক্তিপণ চাওয়ায় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ এপ্রিল থেকে আলভীর সাথে তার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় দালালচক্র। কয়েক দফায় মোট ৪৩ লাখ টাকা দিয়েও বর্তমানে আলভীর কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। নিরুপায় হয়ে গত ১৯ এপ্রিল রাতুলসহ ছয় জনের নামে মানবপাচার আইনে মামলা করে আলভীর বাবা এমদাদ হোসেন খান।
বুধবার ছেলেকে ফিরে পেতে ও দোষীদের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আলভীর পরিবার।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, আলভী নামে এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রাতুল হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।



