নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা এবং আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় অভিযুক্তরা একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন, লিটন হোসেন ও মো: হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জন হামলা চালায়।
এসময় হামলাকারীরা নিজেদেরকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়িতে মাদক আছে বলে তল্লাশির নামে তার ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করে। এ সময় তারা ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নগদ চার লাখ টাকা লুট করে এবং মামলা ও গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।
হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে নাম- অজয় কুমার জয়, পদবি- সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নম্বর ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়। ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক সিপাহী ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সিপাহী শরীফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। একইসাথে তিনি অভিযানের বিষয়ে কিছু জানেন না বলেও জানান।
ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ চার লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত পিয়ার হোসেন জানান, তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত নন। তিন দিন ধরে তিনি ওই এলাকায় যান না। কেউ তাকে ওই ঘটনায় দেখেছেন এমন প্রমাণ দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাত্মক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



