‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির উদ্বোধন

মাদকের কারণে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে : সমবায়মন্ত্রী

লালমনিরহাটকে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে 'আলোকিত লালমনিরহাট, আমাদের অঙ্গীকার' শীর্ষক নবজাগরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

সাব্বির আহমেদ লাভলু, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
লালমনিরহাটে সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
লালমনিরহাটে সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটকে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে 'আলোকিত লালমনিরহাট, আমাদের অঙ্গীকার' শীর্ষক নবজাগরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা শহরের এম টি হোসেন ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মাদকের কারণে আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন আসবে, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে জেলার সব মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীর তালিকা করা হবে। তাদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এরপরও কেউ সংশোধন না হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, প্রতি ১৫ দিন পরপর কর্মসূচির অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। লালমনিরহাটে সফল হলে এ উদ্যোগ সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

ত্রাণ উপদেষ্টা আরো বলেন, কোনো অবস্থাতেই বাল্যবিবাহ হতে দেয়া হবে না। বাল্যবিবাহে জড়িত কোনো কাজির বিরুদ্ধে নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর সভাপতি মুহা. রাশেদুল হক প্রধান।

পরে প্রায় ৩ হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।