অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বাঘা পলাতক

লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে এবার আরো এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চাহিদা মতো মুক্তিপণের ৪৮ লাখ টাকা দেয়ার পরও কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে মাদারীপুরের তছির ফকিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ
লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে এবার আরো এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চাহিদা মতো মুক্তিপণের ৪৮ লাখ টাকা দেয়ার পরও কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে মাদারীপুরের তছির ফকিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

বুধবার (১৩ মে) সকালে যুবকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। পরিবারে চলছে আহাজারি। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। উপজেলা প্রশাসন বলছে, নিহতের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নেয়া হবে উদ্যোগ।

স্বজনরা জানায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে তছির ফকির দেশে ছোট একটি চায়ের দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। ৮ মাস আগে পাশের পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তছির।

প্রথমে তছিরের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে তাকে পাঠানো হয় লিবিয়ায়। সেখানে পৌঁছানোর পর বন্দিশালায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের পর পরিবার থেকে মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা।

একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তছিরকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসার কথা বলে দালালচক্র আরো আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না তছিরকে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যুবকের মৃত্যুর খবরে পরিবারের চলছে মাতম। পাশাপাশি দালালের কঠোর বিচার দাবী করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল হক বলেন, ‘নিহতের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে দালালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। নিহত তছিরের সংসারে স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।