হাইকমিশনের সহায়তায় দেশে ফিরছে আবদুল জলিলের লাশ

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তায় মরহুম আব্দুল জলিলের লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ
মৃত আব্দুল জলিল
মৃত আব্দুল জলিল |নয়া দিগন্ত

উন্নত জীবন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে মালদ্বীপে পাড়ি-জমিয়েছিলেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী আবদুল জলিল। সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই নিভে গেল তার জীবনের প্রদীপ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মধ্যে রাতে মালদ্বীপের মাটিতে মৃত এই রেমিট্যান্সযোদ্ধার লাশ দেশে ফিরছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে এবং দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায়।

মৃতের আত্মীয় মো: জাকির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আবদুল জলিলের লাশ দেশে পাঠানোর জন্য আমরা বাংলাদেশ হাইকমিশনের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। তারা আমাদের জানিয়েছেন পারিবারিকভাবে হাইকমিশন বরাবর লাশ দেশে পাঠানোর আবেদন করতে। কথা মতো আমরা গত ২৯ তারিখে আবেদন করি। এতে হাইকমিশনের সার্বিক সহযোগিতায় তার লাশ দ্রুতই দেশে পাঠানো হায়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাইকমিশনের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আমি মরহুম আবদুল জলিলের পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। একইসাথে এ বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রচার করার জন্য সকল মিডিয়া ভাইদের প্রতিও রইলো আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’

এ বিষয়ে দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, মৃত্যুর পর থেকেই মৃত প্রবাসী আবদুল জলিলের পরিবারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে, তার লাশ দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন তারা। এ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও করা হয়েছে।

হাইকমিশন আরো জানায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কল্যাণ তহবিলের আর্থিক সহায়তায় মরহুম আব্দুল জলিলের লাশ ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশে পৌঁছানোর পর লাশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

একইসাথে প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও মালদ্বীপ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতার মাধ্যমে হাইকমিশন ভবিষ্যতেও এ প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলেও যোগ করেন তারা।

এছাড়াও মরহুম আব্দুল জলিলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একইসাথে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য মহান আল্লাহর নিকট শক্তি ও ধৈর্য প্রার্থনা করেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মালদ্বীপের রাজধানী মালের এক ভাড়া বাসায় ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী আবদুল জলিল। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা করুণ এবং দেশে তার স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান রয়েছে। এজন্য আবদুল জলিলের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে হাইকমিশনের সহযোগিতা চেয়েছেন।