দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি, কিশোরগঞ্জে অবহিতকরণ সভা

দেশের সমুদ্র, উপকূল ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যভান্ডার তৈরিতে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

Location :

Kishoreganj
দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি, কিশোরগঞ্জে অবহিতকরণ সভা
দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি, কিশোরগঞ্জে অবহিতকরণ সভা |নয়া দিগন্ত

দেশের সমুদ্র, উপকূল ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্যভান্ডার তৈরিতে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হচ্ছে। আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এ শুমারি পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে নৌপরিবহন অধিদফতর এ শুমারি পরিচালনা করবে। নৌযান শুমারি ২০২৬-এর কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করতে রোববার (৯ আগস্ট) কিশোরগঞ্জে জেলা পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে নৌযান শুমারি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: মহিদুল ইসলাম।

সভায় জানানো হয়, শুমারির আওতায় দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে যেসব নৌযান নিজস্ব ইঞ্জিনে চলে না, কিন্তু অন্য কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান দিয়ে টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো হয়, সেগুলোর তথ্যও নেয়া হবে। ডাম্ব বার্জও এর আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক ও রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত নৌযান ও স্পিডবোটের তথ্যও শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নৌযান ও জাহাজ এ শুমারির আওতায় থাকবে না। সামরিক বাহিনীর মালিকানাধীন যেসব নৌযান বর্তমানে অন্য বাহিনী বা সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোও এর বাইরে থাকবে। ইঞ্জিনচালিত নয়—এমন সাধারণ নৌকার তথ্যও নেওয়া হবে না।

সভায় আরো জানানো হয়, শুমারির মাধ্যমে নৌযানের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরি করা হবে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নৌযান সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের ঘাটতি রয়েছে। শুমারির তথ্য সেই ঘাটতি পূরণে কাজে লাগবে।

নৌযান, মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার থাকলে দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সাথে দুর্ঘটনা কমাতে ব্যবস্থা নেয়া, নাবিকদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা, নৌপরিবহন খাতের নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে। শুমারির মাধ্যমে তৈরি তথ্যভান্ডার সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সরকারি তথ্য হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

সভায় কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), নৌপুলিশ, মৎস্য অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সাথে নৌযানের মালিক, মাঝি-মাল্লা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।