কুড়িগ্রামে বিদেশী আঙুর চাষে দুই উদ্যোক্তার সাফল্য দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে

বাগানে বাইকুনুর ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশী জাতের আঙুরের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আঙুর বাগান
আঙুর বাগান |ইউএনবি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিদেশী প্রজাতির (বাইকুনুর) লাল আঙুর চাষ করে সফলতা পেয়েছেন দুই কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমীন ও হাসেম আলী। তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আশা জাগিয়েছে।

উপজেলার গংগাহাট বাজারসংলগ্ন আজোয়াটারী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে প্রায় এক দশকের পরিশ্রমে গড়ে উঠেছে তাদের আঙুর বাগান। বর্তমানে সেখানে ৪৬০টি বাইকুনুর জাতের আঙুরলতা রয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৭ সালে মাত্র ৪০টি চারা দিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে সামান্য ফলন এলেও ২০২২ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর বিক্রি শুরু করেন তারা। ওই বছর ৫০টি গাছ থেকে প্রায় পাঁচ মণ আঙুর বিক্রি হয়। পরে ২০২৩ সালে ১০ মণ, ২০২৪ সালে ১৫ মণ এবং ২০২৫ সালে ২০ মণ আঙুর বিক্রি করা হয়। চলতি বছর ৬০টি গাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন তারা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা হবে বলে ধারণা তাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে বাইকুনুর ছাড়াও বিভিন্ন বিদেশী জাতের আঙুরের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় তিন শতাধিক ফলজ গাছ রয়েছে। বাগানটি এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগ্রহীরা এখান থেকে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

মাগুরা থেকে আসা সহকারী শিক্ষক ও সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা রামপ্রসাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগানটির কথা জেনে আমি অনুপ্রাণিত হই। পরে সশরীরে এসে ২০টি চারা সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে আঙুর চাষ শুরু করি। বর্তমানে আমার গাছেও ফলন আসা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ও বিষ্ণু চন্দ্র রায় জানান, শুরুতে অনেকে এ উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও উদ্যোক্তাদের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের কারণে তা সফলতায় রূপ নিয়েছে। এখন তারা এ সাফল্যে গর্বিত।

উদ্যোক্তা হাসেম আলী বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে আমরা আঙুর চাষ শুরু করি। বর্তমানে আঙুর বিক্রির পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও বছরে উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে, যা প্রায় আট লাখ টাকায় পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে সাড়ে আট লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

সহযোগী উদ্যোক্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, দুই বিঘা জমিতে বাগান গড়ে তুলতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আঙুর ও চারা বিক্রি করে প্রায় ছয় লাখ টাকা আয় হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকেরা এসে চারা সংগ্রহ করছেন এবং বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, বেলে দোআঁশ মাটিতে আঙুর চাষ করে এই দুই উদ্যোক্তা একটি নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল একটি সফল বাগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্থানীয় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।