মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক (র্যাবিস) রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম।
এখন থেকে বন্য বা গৃহপালিত স্তন্যপায়ী প্রাণী— বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, শিয়াল কিংবা বেজির কামড় ও আঁচড়ের শিকার স্থানীয় রোগীরা কোনো প্রকার খরচ ছাড়াই এই জীবনরক্ষাকারী সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা চড়া মূল্যে বাজার থেকে ভ্যাকসিন কেনার আর্থিক বোঝা থেকে রেহাই পাবেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই টিকাদান কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলমান রয়েছে।
বিনামূল্যে এই সেবা চালু হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের পাতিলপাড়া গ্রাম থেকে টিকা নিতে আসা রানু বেগম নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আগে অনেক টাকা দিয়ে বাজার থেকে এই ভ্যাকসিন কিনে আনতে হতো, যা আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। আজ সাটুরিয়া সরকারি হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই টিকা পেয়ে অত্যন্ত উপকার হলো।
সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারাত্মক ও শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ। তবে আক্রান্ত হওয়ার পর সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বর্তমানে সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিনের মজুত রয়েছে। আমাদের একটি দক্ষ টিম প্রতিদিন এই টিকাদান কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করছে।
তিনি জনসাধারণের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করে আরো বলেন, কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে অবহেলা করা যাবে না। আক্রান্ত স্থানটি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষারযুক্ত সাবান ও পরিষ্কার প্রবহমান পানি দিয়ে কম করে হলেও ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর কোনো ধরনের কবিরাজি চিকিৎসা বা অবৈজ্ঞানিক ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করার জন্য আমরা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা সরকারের এই স্বাস্থ্যবান্ধব পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অঞ্চলে জলাতঙ্কজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসবে।



