তালতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনার তালতলীতে সরকারি রাস্তা কেটে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবুল দফাদার নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, উপজেলার ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের মোয়াপাড়া-মৌরভী সংযোগ ব্রিজ থেকে মৌরভী দফাদার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার দিবাগত রাতে বাবুল দফাদার তার লোকজন নিয়ে বাড়ির সামনের মসজিদ থেকে উত্তর দিকে প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে কৃষিজমির সাথে মিশিয়ে দেন। রাস্তা কেটে ফেলায় মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে স্কুল-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় মজিবুর রহমান তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জাহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
স্থানীয়রা জানায়, মৌরভী গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মক্তব এবং মোয়াপাড়া গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুবহানপাড়া গ্রামে একটি দাখিল মাদরাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ দুই গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কটি ব্যবহার করে আসছেন।
ভুক্তভোগী আব্দুস সোবাহান, নবী হোসেন, হুমায়রা বেগম ও আসমা বেগম বলেন, আমাদের সন্তানরা নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-মাদরাসায় যাতায়াত করে। রাস্তা কেটে ফেলায় তাদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মাওলানা এবাদুল হক বলেন, মৌরভী ও মোয়াপাড়া গ্রামের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই রাস্তা। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাট-বাজারসহ বিভিন্ন কাজে যেতে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হবে।
অভিযোগের পর ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য ৬ নম্বর নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চুর কাছে পাঠান।
ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ওই রাস্তার জন্য ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দারের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিক জমাদ্দার বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে রাস্তাটি মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বাবুল তার বাড়ির সামনের প্রায় ৪০০ ফুট রাস্তা কেটে ফেলেছেন। এতে দুই গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।’
এদিকে, রাস্তা কেটে দেয়ার প্রতিবাদে দুই গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। পরে সোমবার তারা রাস্তার পাশে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া এবং দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বাবুল দফাদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তালতলীর ইউএনও মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রাস্তাটি যদি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে করা হয়ে থাকে, তাহলে সিবিসি হিসেবে ইউপি সদস্যকে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছি।’



