কক্সবাজারে বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার চকরিয়া, মাতামুহুরি ও পেকুয়া উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। আর বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমিরের নেতৃত্বে একটি টিম চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপহার সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমেদ আনোয়ারী, কক্সবাজার শহর আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক, চকরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আবুল বশর, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাস্টার মিনহাজ উদ্দিন প্রমুখ।
এছাড়া সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল মান্নান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বন্যাকবলিত ও পানিবন্দী এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল মান্নান পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলার বেতুয়া বাজার স্টেশন ও কোনাখালী ইউনিয়নের মরংগুনা পরিদর্শন করে পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় বন্যা চলাকালীন সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ওষুধ ও মোমবাতি বিতরণ করা হয়।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
চকরিয়া, নব গঠিত মাতামুহুরি ও পেকুয়া উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখনো পানিতে ডুবে থাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, ফাসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, হারবং, ডুলাহাজারা, খুটখালী, বমু-বিলছড়ি, লক্ষ্যারচর; নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বদরখালী, সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ভেওলা মানিক চর ও পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, পেকুয়া সদর, মগনামা, টৈটং ইউনিয়নের ৭০-৮০ ভাগ ঘরেবাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে রান্না করতে না পারায় অনাহারে দিনাতিপাত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ছয় দিন ধরে টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় এসব ইউনিয়নে পানির স্রোতে শত শত একর মাছের ঘের, আমন ধানের বীজতলা, বসতবাড়ি ভেসে গেছে।



