কক্সবাজারের মাতামুহুরি নদীর পানি নামতে শুরু করলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার জনদুর্ভোগ কাটেনি। পানি কমার সাথে সাথে ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। অন্যদিকে এখনো হাজারও মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অর্ধহারে ও অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাতামুহুরি নদীর পানি নামতে শুরু করলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পচনশীল বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার মানুষ।
এছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার নলকূপ, পাতকুয়া এখনো পানির নিচে। ফলে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া এলাকার গবাদিপশুগুলো খাদ্যের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছে এবং সড়কের পাশের জমে থাকা বর্জ্য খেয়ে জীবনধারণ করতে দেখা গেছে।
চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, এবারের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার কাঁচা-পাকা মিলে প্রায় ১১০ কিলোমিটার সড়কসহ ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু ধসে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার প্রথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি।
এদিকে চকরিয়া পৌর এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল পাড়া, সবুজ বাগ, স্টেশন পাড়া, ভরামুহুরী, ভাঙার মুখ, ফুলতলা, শহর রক্ষা বাধ এলাকা, সরকারি বালিকা বিদ্যালয় এলাকাসহ বহু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধ অবস্থা বিরাজমান রয়েছে। ফলে অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দী রয়েছেন।
কিছু জায়গায় পানি সরে গেলেও সড়কের অলিগলিতে ময়লার স্তুপ ও ড্রেনে ময়লা, বর্জ্য জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



