সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

Location :

Saidpur
কিশোর গ্যাংয়ের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন
কিশোর গ্যাংয়ের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০ জন |মানচিত্র

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিস্ত্রিপাড়া শাখাওয়াত তালাও (পুকুর) এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপের সাথে মিস্ত্রিপাড়া নবীনগর এলাকার গ্রুপের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার সমাধানে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই দুপুরে নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজা (১৮) মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে যান। সেখানে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাদ্দাম, গোল্ডেন, সালাউদ্দিন ও জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন রাজা ওপর হামলা চালায়।

একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাজার শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন বলে জানা গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে নবীনগর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোটা নিয়ে মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় গিয়ে মহড়া দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে অবস্থান করেন। আর এরই ফাঁকে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নবীনগর এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাংচুর করাসহ সেখানকার নারী-পুরুষের ওপর হামলা চালান। এতে প্রায় ১০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় এলাকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নবীনগর এলাকার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, ‘শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা আমার বাড়িতেও চড়াও হয় ও আমাকে মারধর করেছে। অথচ দু’পক্ষের গ্যাঞ্জামের সাথে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয়। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এমনকি সাহিদের ছেলে রাজাকে কোপানো হয়েছে। সে এসবের মধ্যে ছিল না। সে খুবই সাধারণ ও নম্র ভদ্র ছেলে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকেই মেরেছে। এ কারণেই এলাকার ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমরা এমন দুর্বত্তদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। নিরীহ লোকজনকে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’

মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার সাহিদের ছেলে ইমরান বলেন, ‘একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গ্যাঞ্জাম হয়। সে সময় তানভির নামে একটি শিশুকে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা আটক করে মারধর করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করে তানভিরকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। এ কারণে তারা আমাকে প্রতিপক্ষ মনে করে আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। অস্ত্র দিয়ে দরজায় ও জানালায় আঘাত করে প্লেনসিট বাকা করে ফেলেছে ও বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করেছে। আমরা পুলিশকে খবর দিলেও আসেনি। বরং স্পৃস্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যাওয়া যাবে না। কারণ এক নেতা নিষেধ করেছে।’

নবীনগর এলাকার গৃহিনী নিপু বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা আমরা টিভির পর্দায় দেখেছি। কিন্তু আজ চোখের সামনে অস্ত্র নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের মহড়া দেখলাম। তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মহিলাদের গায়েও হাত তুলেছে। বাধা দেয়ায় প্রায় ১০ জনকে মারধর করে জখম করেছে। এ কারণে আমরা আতঙ্কিত। তারা এলাকার রাজাকে নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই সন্ত্রাসীদের উচিত বিচার দাবি করছি।’

সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, ‘মূলত কি কারণে এই ঘটনা তা জানি না। তবে শনিবার সকালে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলে সাদ্দাম সাহেবপাড়া আমিন মোড় এলাকায় তার কর্মস্থল দর্জি দোকানে গেলে তাকে দোকান থেকে বের করে নবীনগর এলাকার ছেলেরা আটক করে মারপিট করে। এর প্রেক্ষিতেই পাল্টা হামলা চালানো হয়। বিষয়টা মিমাংসার চেষ্টা চলছে।’

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।