ঝালকাঠিতে কালবৈশাখীর আঘাতে বোরো ধানের বড় ক্ষতি

‎ ‎চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

Location :

Jhalokati
ঝালকাঠিতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত
ঝালকাঠিতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত |নয়া দিগন্ত

‎কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে ঝালকাঠি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও আধাপাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ ক্ষেত পানির নিচে ডুবে আছে। এতে চলতি মৌসুমে কৃষকের সম্ভাব্য লাভের বদলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

‎চলতি মৌসুমে ঝালকাঠি জেলায় ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে শেষ সময়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‎এ বছর শুরু থেকেই কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের সঙ্কট ও দাম বৃদ্ধির কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক কৃষককে বেশি দামে ডিজেল কিনে চাষাবাদ চালাতে হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর মধ্যেই ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের ক্ষতি আরো গভীর হয়েছে।

‎ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের হরিপাশা গ্রামের কৃষক মোঃ মোসলেম হাওলাদার বলেছেন, অতিবৃষ্টিতে তার বোরো ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

‎তিনি জানিয়েছেন, ব্রি ধান ৭৪ জাতের ১৬০ শতক এবং হাইব্রিড ময়না ও টিয়া জাতের ১২০ শতক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানগাছ ভেঙে পড়ায় ফসল ঘরে তোলার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

‎কৃষক মোসলেম হাওলাদার আরো বলেন, এ বছর উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেশি ছিল, তার ওপর ডিজেলের সংকটের কারণে চাষাবাদে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এখন অতিবৃষ্টিতে পুরো ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় তিনি চরম ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

‎নলছিটি উপজেলার শীতলপাড়া এলাকার কৃষক মামুন হোসেন জানিয়েছেন, “৫৫০ শতাংশ জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন সব পানির নিচে। ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না।”

‎পরমপাশা এলাকার কৃষক সবুজ খান বলেছেন, “৪ কুড়া জমির ধান ঝড়ে শুয়ে গেছে, অনেক জায়গায় পানির নিচে চলে গেছে। এবছর খরচই বেশি ছিল, এখন পুরোটা ক্ষতি হয়ে গেল।”

‎‎

‎নলছিটি উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: রুবেল মৃধা জানিয়েছেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

‎ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ বলেছেন, “মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিপক্ব ধান দ্রুত কেটে ফেলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।”

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানিয়েছেন, জেলায় এবার মোট ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৬৯২ হেক্টরের ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

‎তিনি বলেছেন, “বর্তমানে ৯টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা চলছে। যেসব ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে বড় সমস্যা হবে না, তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।”

‎তিনি আরো জানান, সদর ও নলছিটি উপজেলায় বোরো আবাদ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি। পাশাপাশি মুগ, মরিচসহ অন্যান্য ফসলেও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

‎সব মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সঙ্কট এবং শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে ঝালকাঠির কৃষকেরা এবছর বোরো মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।