মুকসুদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি পণ্য

উপজেলার প্রায় ২০টি বেকারি থাকলেও সরকারি হিসাবে ১৩টি কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বেকারিতে ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে না।

Location :

Gopalganj
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বেকারি পণ্য
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বেকারি পণ্য |নয়া দিগন্ত

মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদতা
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারির খাবার। আর এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকায় গড়ে উঠেছে বেকারিগুলো। এলাকার সাধারণ মানুষ দায় দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বেড়েই চলেছে এসব কারখানা।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেকারির কারখানা তৈরি হলেও নেই বিএসটিআই সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, ই-টিআইএন, ভ্যাট, খাদ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য সনদ, ফায়ার সার্ভিসের সনদ, মার্কেটিং সনদ, কোনো খাবারের গায়ে ব্যাচ নম্বর উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ নেই। খাবারে মেশানো হচ্ছে কৃত্রিম রং, মান নিয়ন্ত্রণের নেই কোনো ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রায় ২০টি বেকারি থাকলেও সরকারি হিসাবে ১৩টি কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বেকারিতে ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে না। বেকারির ভিতরে অস্বাস্থ্যকর, নোংরা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, বাটার বন, মিস্টিসহ বেকারি পণ্য কারখানার ভিতরে সেখানে খাবার তৈরি হচ্ছে, সেখানে রাখা হচ্ছে জ্বালানি কাট। রয়েছে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল এবং পামওয়েল তেলের ড্রাম। খাদ্যদ্রব্য তৈরির প্রক্রিয়াজাত কড়াই, টেবিলগুলো নোংরা। কর্মচারী খোলা হাতে ঘামসহ তৈরি করছেন পণ্য।

মুকসুদপুর পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা না বুঝে বেকারির খাবার কিনে খাচ্ছি, খাদ্যে ভেজাল সমাজের একটি মারাত্মক অপরাধ এদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়া ও অসাধু ব্যবসায়ী আইনের আওতায় আনা উচিত।’

মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্বাস্থ্য পরিদর্শক আফলাতুন আসমা বলেন, ‘শুধু মাত্র পৌরসভা ও ইউনিয়নে ট্রেড লাইসেন্স, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যগত সনদপত্র নিয়ে তারা বেকারি পরিচালনা করে আসছে। গত বছর পর্যন্ত বেকারিগুলোর সনদপত্র গুলো প্রদান করা হলেও বর্তমান সরকারি ভাবে সনদপত্র নবায়ন বন্ধ আছে।’

মুকসুদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডা: ভীষ্মদেব মন্ডল বলেন, ‘ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয়, গ্যাস্ট্রিক হতে পারে, এছাড়া কৃত্রিম রং মেশানো খাবার খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। ’

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির বলেন, ‘বেকারিগুলো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ খাদ্য তৈরী করছে জানা নেই। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা বাজার মনিটরিং করছি অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’