ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো: মামুন অর রশিদের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগের খবর প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে সমালোচনার ঝড় বইছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা একজনকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার পরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই নবনিযুক্ত ভিসির বিগত দিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক মামুন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালীন আর্থিক দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন। পবিপ্রবির জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (ইউটিএবি) সভাপতি হিসেবেও তিনি বিতর্কিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন একজন ব্যক্তিকে দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অভিভাবক হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রিপন বলেন, ‘আমরা দক্ষ ও প্রশাসনিকভাবে অভিজ্ঞ একজন ভিসি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ থাকায় আমাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন ভিসির কলুষিত অতীত কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। আমরা এমন একজন ভিসি চাই যার শিক্ষা ও গবেষণায় দেশজুড়ে খ্যাতি আছে এবং যিনি স্বৈরাচারী আমলে জুলুমের শিকার হয়েছেন। বিতর্কিত কাউকে আমরা এ পবিত্র ক্যাম্পাসে মেনে নেব না।’
জাতীয় ছাত্রশক্তির ববি শাখার আহ্বায়ক মো: বেলাল বলেন, ‘সবাই জানত নিয়োগ দলীয় হবে, কিন্তু তাই বলে একজন দলীয় ক্যাডার নিয়োগ হবে—এমনটা কেউ আশা করেনি। ছাত্ররা তাদের যোগ্য অভিভাবক পাচ্ছে না, যা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিয়ে তুলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বিতর্কিত ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একজনকে নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেয়ার পরিবর্তে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
পবিপ্রবিতে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় এমন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করবে।



