ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ‘শিখা ইন’ অবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবু (৩৭)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে আগুন লাগে এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
মৃত আহমেদ বাবুর বাড়িতে স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম। তিনি আমিনবাজারের বেগুনবাড়ীর আদম আলী ও মাতা সাবেরা বেগমের ছেলে। শিকদার পাড়ায় নিজেদের ৪ তলা বাড়িতে পরিবারসহ বসবাস করতেন। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আহমেদ বাবু।
আহমেদ বাবুর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়িক কাজে গিয়ে কলকাতার ‘শিখা ইন’ নামে একটি হোটেলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
আমিনবাজারে এম এ হোসেন টাওয়ারে কিউট কসমোটিকস নামে দোকানের স্বত্বাধিকারী তিনি। নিহত আহমেদ বাবুর স্ত্রী, আট বছরের একটি মেয়ে ও ৫ বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও মৃতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৭ আগস্ট (সোমবার) রাতে ব্যবসার উদ্দেশে কলকাতা যান আহমেদ বাবু। বুধবার (১৯ আগস্ট) তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। দীর্ঘদিন ভারতের ভিসা বন্ধ থাকায় দুই বছর পর তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন ব্যবসায়িক কাজে। দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় তার মৃত্যুর খবর। পরে তার ছবি ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠালে পরিবারের পক্ষ থেকে ছবি দেখে আহমেদ বাবুকে শনাক্ত করা হয়।
বাবুর মেজো ভাই মনির হোসেন জানান, ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যাওয়ার আগে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সাথে কথা বলে গিয়েছিলেন আহমেদ বাবু। কিন্তু কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগার পর আর বাবুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো জানান, ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত দেশের বাইরে যাতায়াত করতেন বাবু।
সাভার মডেল থানা ও আমিনবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ (এসআই) জাকির আল-আহসান নয়া দিগন্তকে আহমেদ বাবুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, ১৭ আগস্ট (সোমবার) রাতে তিনি ব্যবসায়িক কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দেশে ফিরে আসার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, মৃত ৫ বাংলাদেশীর মধ্যে অপর চারজন হচ্ছেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফসানা শাম্মী (৩৬), ছেলে স্বর্ণশীষ (২) এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৮)।



