নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে থানা দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকার একটি মিলনায়তনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জেলা ও মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে তাদের থানা দায়িত্বশীল নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফোডারেশনের সভাপতি আব্দুল মোমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাড়ে সাত কোটি শ্রমিক রয়েছে। এই শ্রমিকের কল্যাণের কথা সবাই বলে, কিন্তু দুর্ভাগ্য শ্রমিকের কোনো সমস্যার সমাধান হয় নাই। আমাদের নায্য মজুরি পাচ্ছি না। আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টার কথা বলা হয় কিন্তু বাংলাদেশের কোথাও আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা চালু হয় নাই। কোথাও কোথাও ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্রমিকদের কাজ করতে হয়।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিক আন্দোলন হয়েছে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ হয়নি। যখন তখন শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়ে থাকে। উৎসবের দিনগুলোতে পর্যন্ত মালিকরা শ্রমিকদের ছুটি দিতে চান না। উৎসবের দিন যদি ছুটি না দিয়ে থাকে তাহলে সেখানে মানবিকতা থাকে না। সামনে জাতীয় বাজেট আসছে। তার আগেই বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বাজেট প্রস্তাবনা দিবে।
তিনি আরো বলেন, সরকাকে বলবো আপনারা অনেক কথা বলেন। আমরা শ্রমিকরা কোনো কার্ড ভিক্ষা চাই না, ন্যায্য অধিকার চাই ইনসাফ চাই। ইনসাফ দেন বৈষম্য দূর করেন আর অধিকারটা দেন কোনো কার্ড না হলেও আমাদের সমস্যা নাই। আমরা কাজ চাই মজুরি চাই। দেশের একজন শ্রমিক হিসেবে সামাজিক মর্যাদা চাই।
এই শ্রমিক নেতা বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রচলিত ধারার কোনো শ্রমিক আন্দোলন নয়। আমরা শ্রমিক মালিকের সম্পর্ক চাই। ইন্ডাস্ট্রি টিকলে শ্রমিকের চাকরি থাকবে মালিক টিকলে শ্রমিকরা বেতন পাবে। আমরা শ্রমিকদের স্বার্থ দেখবো পাশাপাশি মালিকদেরও স্বার্থ দেখবো। ২৪-এর আন্দোলনে ১২০ জন শ্রমিক জীবন দিয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার শ্রমিক মানুষরা। নারী পুরুষের বেতনে বৈষম্য আছে। অনেক জায়গায় ট্রেড ইউনিয়ন করা যায় না।
বর্তমান সরকার মুখে বললেও প্রকৃত অর্থে সংস্কার বিরোধী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারবিরোধী সরকার তার প্রমাণ হচ্ছে তারা শ্রম আইনের কোনো সংস্কার মানে নাই। আমরা বিগত দেড় বছর বহু মিটিং করে দুই জায়গায় সংস্কার এনেছিলাম। এরা পার্লামেন্টে আলোচনা না করেই এই দুই জায়গায় পরিবর্তন করে আগের জায়গায় নিয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, শ্রমিকলীগ-শ্রমিকদল সেজে চাঁদাবাজি করবেন লুটপাট করবেন দখলবাজি করবেন এটা আমরা হতে দিবো না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নেতা হয়ে শ্রমিক শোষণ করার সুযোগ করে দিবো না।
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের অবদান স্মরণ করে দিয়ে তিনি বলেন, বিপ্লবের রেজাল্ট ঘরে তোলার জন্য শ্রমিকদের আগামী দিনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সকল সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন বৃদ্ধি করে ঘরে ঘরে শ্রমিক কল্যাণের দাওয়াত পৌছে দিতে হবে। আর সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য থাকবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি। শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সবার আগে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রোগামের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন মাওলানা আব্দুশ শাকুর।
সমাবেশে জেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, মহানগর সহ-সভাপতি মুন্সি আব্দুল্লাহ ফয়সুল, মহানগর সেক্রেটারি সোলাইমান হোসাইন মুন্না, জেলা সেক্রেটারি মো: রেদোয়ানুল আজিম, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ খোরশেদ আলম রবিনসহ জেলা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন।



