মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত চার দিনে তিন নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের খণ্ডিত লাশ, একজনের অর্ধগলিত ভাসমান লাশ এবং এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ শনিবার (৩০ মে) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়দের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাউশিয়া এলাকা থেকে এক নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অংশগুলোর মধ্যে মাথা, হাত ও পায়ের থেঁতলানো অংশ রয়েছে। নিহত নারীর বয়স প্রায় ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে পিবিআইয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ভাটেরচর গ্রামের একটি শাখা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর লাশ উদ্ধার করে গজারিয়া নৌপুলিশ। পরে লাশটি উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহসিন মিয়ার মেয়ে হালিমা আক্তারের বলে শনাক্ত করা হয়।
নৌপুলিশের ইনচার্জ শরজিত কুমার ঘোষ জানান, পরিবারের দাবি অনুযায়ী হালিমা পাঁচ দিন আগে নিখোঁজ হন। হালিমার বাবা মহসিন মিয়া জানান, পাঁচ মাস আগে উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের লিমন মিয়ার সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এরও আগে ঈদুল আজহার আগের দিন বুধবার বিকেলে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় নিজ শয়নকক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় নাদিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
নাদিয়া আক্তার ওই এলাকার গিয়াসউদ্দিন মিয়ার ছেলে সৌদি আরব-ফেরত সিয়াম ব্যাপারীর স্ত্রী। তাদের দেড় বছর বয়সী ইবনে সিনহা নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
গজারিয়া থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



