রাজনগর (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
নিহত আশরাফ আলী টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে বৃদ্ধ আশরাফ আলী নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের সাথে তার লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর হরিপাশা এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রথমে সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরে ওইদিন রাতে কান্দিরকুল এলাকায় দ্বিতীয় ভাঙন দেখা দিলে নতুন করে ১৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়। তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে সেই পানিতে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ আশরাফ আলী। পরে শুক্রবার সকালে তার লাশ ভেসে ওঠে।
টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বৃদ্ধ আশরাফ আলীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে রাজনগর উপজেলায় মনু নদীর ভাঙনে ২৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। অব্যাহত বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন দুর্গত এলাকার লোকজন।
বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
প্লাবিত গ্রামগুলো হলো— টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও, গনেশপুর; মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর, গোবিন্দশ্রী এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসগস্র ও দত্তগ্রাম।
আকস্মিক এ বন্যায় প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষকে শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছ।
প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গো-খাদ্যসহ নানান সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উচু জাগায়, আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিপুল সিকদার জানান, রাজনগরে আকস্মিক বন্যায় তিনটি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুর্গতদের জন্য পার্শ্ববর্তী কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও দুর্গতদের সহযোগিতার জন্য চালসহ আরো বরাদ্দ পাওয়া গেছে। দ্রুত তা বিতরণসহ সব ব্যবস্থা করা হবে।



