আওয়ামী লীগ স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংস করে গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রত্যেক জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেয়া হবে। প্রত্যেক মেডিক্যাল কলেজে দেয়া হবে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন।’

এম এ মজিদ, হবিগঞ্জ

Location :

Habiganj
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, (ডানে) মন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, (ডানে) মন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন |নয়া দিগন্ত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে ধ্বংস করে গেছে। কোনো উন্নয়ন তো করেইনি; বরং চুরি করে গেছে। সেই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আমরা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট রিগ্যান হোসেনকে হবিগঞ্জ থেকে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের রোগীদের সাথে কথা বলেন। রোগী ও তাদের স্বজনরা মন্ত্রীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু টিকা দিলেই হাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে তা কিন্তু নয়। আমাদেরকে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। মায়েদের পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেয়া যাবে না। ১৫-১৬ বছর বয়সে অনেক মেয়ে এক দুই বাচ্চার মা হয়ে যাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখনকার মায়েরা সন্তান প্রসবের পর শাল দুধ খাওয়াতে চান না, অথচ এটা হচ্ছে পুষ্টির ভান্ডার। অনেকে বুকের দুধই সন্তানকে খাওয়াতে চান না, এসব থেকে সরে আসতে হবে। মানুষকে বুঝাতে হবে, বুঝতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বাড়ানো যাবে, রোগের প্রাদুর্ভাব তত কমে আসবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রত্যেক জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন দেয়া হবে। প্রত্যেক মেডিক্যাল কলেজে দেয়া হবে ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন। অর্থাৎ হবিগঞ্জ জেলা পাবে মোট ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে মানুষকে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরে যেতে হবে না, তাৎক্ষণিক সুচিকিৎসা কাছেই পাবে।’

স্বাস্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। যেখানে ডাক্তারের সঙ্কট, সেখানে ডাক্তার দেয়া হবে শীঘ্রই। প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউনিয়ন হেলথ সেন্টার করা হবে, যেখানে ডাক্তার, নার্স সবাই থাকবেন। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হবে।’