দিরাইয়ে বিএনপি-আ’লীগ সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪০

শাহাদীব মেম্বার ও আব্দুল মুহিতের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে।

ইমরান হোসাইন, দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ)

Location :

Sunamganj
বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত অন্তত ৪০ জন
বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে একজন নিহত, আহত অন্তত ৪০ জন |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের পল্লীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে রতন মিয়া (৪০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন।

বুধবার (১৩ মে) সকালে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও আলীনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মুহিত ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য (মেম্বার) শাহদীব মিয়ার লোকজনের মাঝে ঘণ্টাব্যাপী ওই সংঘর্ষ হয়।

নিহত রতন মিয়া (৩০) আলীনগর গ্রামের সোনাই মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহদীব মিয়ার পক্ষের লোক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহাদীব মেম্বার ও আব্দুল মুহিতের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলাও রয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে সঙ্ঘটিত আরেকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ভাটিপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শাহাদীব মেম্বারকে প্রতিপক্ষের লোকজন আটকিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।

সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্দুল মুহিত পক্ষের অন্তত ২০ জনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এছাড়া শাহাদীব মেম্বারের পক্ষের আহত ২০ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত আল আমিন (২৬), সোনাই মিয়া (৭৫) ও রতন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে রতন মিয়ার মৃত্যু হয়।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে একপক্ষ অপর পক্ষকে দায়ী করছে।

সংঘর্ষে নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নিহতের খবর পেয়েছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’