দেবিদ্বারে ভাড়াটিয়ার হাতে বাড়ির মালিক খুন, অভিযুক্ত আটক

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Location :

Cumilla

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ভাড়াটিয়ার হাতে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক বাড়ি মালিক খুন হয়েছেন। হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশের নয়টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে ঘেরাও করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে আটক করে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই গ্রামের জাহাজকর্মী মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। দুই মেয়ের বিয়ের পর থেকে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। অভিযুক্ত লাইলী আক্তার ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্বামী আবুল কালাম আজাদের সাথে বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ফরিদা ইয়াসমিনের ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার পৈতৃক বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার ভাগনে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় প্যাকেট খুলে ভেতরে খণ্ডিত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

এদিকে এঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে ঘেরাও করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার স্বামী আবুল কালাম আজাদসহ রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরো তিন যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে জানান। পরে উত্তেজিত জনতা লাইলী আক্তারকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনে মোড়ানো লাশের খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আটক লাইলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের আটক অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।