‘সোনালী কাবিন’ পদক পেলেন কবি আব্দুল হাই শিকদার : আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সোনালী কাবিন পদক’ পেলেন বিশিষ্ট কবি আব্দুল হাই শিকদার।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Location :

Brahmanbaria
‘সোনালী কাবিন’ পদক পেলেন কবি আব্দুল হাই শিকদার, আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি
‘সোনালী কাবিন’ পদক পেলেন কবি আব্দুল হাই শিকদার, আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের বর্ণাঢ্য সমাপ্তি |নয়া দিগন্ত

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সোনালী কাবিন পদক’ পেলেন বিশিষ্ট কবি আব্দুল হাই শিকদার।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনব্যাপী আল মাহমুদ স্মরণোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসন এবং কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম।

সম্মাননা গ্রহণের পর কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘কবি আল মাহমুদ জন্ম না নিলে বাংলার নদী, প্রকৃতি, গ্রামীণ জনপদ ও লোকজ ঐতিহ্যকে আমরা এভাবে চিনতে পারতাম না। তার কবিতায় যে বাংলা উঠে এসেছে, সেটিই আমাদের শিকড়, আমাদের আত্মপরিচয়।’

তিনি বলেন, আশির দশকের বাংলা কবিতায় আল মাহমুদ ছিলেন অনন্য উচ্চতার কবি। বক্তব্যে তিনি কবি ফররুখ আহমদ, পল্লীকবি জসীমউদ্দীন, জীবনানন্দ দাশ, শামসুর রাহমান, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, নজরুল গবেষক আব্দুল কাদির এবং কবি মাহফুজউল্লাহর সাহিত্যকীর্তির কথা স্মরণ করেন। একই সাথে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান হিসেবে অদ্বৈত মল্লবর্মণ, আব্দুল কাদির ও মাহফুজউল্লাহর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুধু আল মাহমুদের জন্মভূমিই নয়, এটি সংস্কৃতির এক উর্বর জনপদ। এ জেলার মাটিতে জন্ম নিয়েছেন সুরসম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ।

তিনি ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম, বড় হুজুর সিরাজুল ইসলাম ও মুফতি আমিনীর অবদান স্মরণ করেন। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক কালভৈরব, ঐতিহাসিক ঈসা খাঁর রাজধানী সরাইল, জিআই পণ্য ছানামুখী, ঐতিহ্যবাহী তালের বড়া এবং মুক্তিযুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, আল মাহমুদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এমন এক শক্তিমান কবি, যিনি তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে বাংলা কবিতাকে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তার সাহিত্য ও জীবনদর্শন পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন আরো বিস্তৃত হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে কবি আব্দুল হাই শিকদারের হাতে ‘সোনালী কাবীন পদক’, সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় তুলে দেন অতিথিরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

তিন দিনের স্মরণোৎসব শেষে আয়োজক ও অতিথিরা কবি আল মাহমুদের সাহিত্য, দর্শন ও বাঙালির শিকড়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।