নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

টেকনাফের নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ও নৌকাসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩
নাফ নদীতে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩ |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করা হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির যৌথ আভিযানিক দল নাফ নদীতে এই অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আটক ব্যক্তিরা হলেন টেকনাফের কুলালপাড়া গ্রামের মরহুম কবির আহম্মেদের ছেলে জামাল হোসেন (৩৮), নোয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো: এমরান (২৫) ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো: ইসমাইল (২৪)।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাফ নদী পার হয়ে সাবরাং সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্যে বিজিবির আভিযানিক দল বিকেল ৩টার দিকে ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। সাড়ে ৪টার দিকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা মিয়ানমার সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখে বিজিবির নৌ-টহলদল থামার সংকেত দেয়।

তবে পাচারকারীরা সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। এ সময় নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা কৌশলে নৌকাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে আটক পাচারকারীদের তথ্যের ভিত্তিতে শাহপরীরদ্বীপ-সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় প্লাস্টিকের বস্তাটি উদ্ধার করা হয়। বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার ইয়াবাসহ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত এলাকায় সংঘটিত সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। মাদক পাচারকারীরা যতই কৌশল পরিবর্তন করুক না কেন, বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, নৌ-টহল এবং সমন্বিত আভিযানিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতে আরো জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।’