ভোলার লালমোহনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পলাতক শিক্ষকের পদোন্নতি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পালিয়ে থাকা সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন ও বিদ্যালয়ে যোগদান নিয়ে এ ক্ষোভ দেখা দেয়। তার বিরুদ্ধে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে না অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের ক্ষোভের কথা জানা যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগে পলাতক থাকা অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই বছর পলাতক থাকার পর সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) আদেশ নিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
২০১২ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকাকালীন বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন ২১৫টি দোকান বরাদ্দের নামে দোকানপ্রতি তিন থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কেবল দোকান বরাদ্দ থেকেই তিনি আট থেকে ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে।
এছাড়া, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং বিদ্যালয়ের জমি অবৈধভাবে বিক্রির সাথেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সরেজমিনে তদন্ত চালায়। পরে ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তারিখে মাউশির মহাপরিচালকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না করা এবং বেতন-ভাতা স্থগিত করাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
তবে তদন্ত কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে চলতি বছরের ১৭ জুন মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আবু তৈয়বকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষমতা দেয়া হয়। এ আদেশ পাওয়ার পরই তিনি বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তৈয়ব বলেন, তদন্ত কমিটি কোনো বিষয় জানতে আমাকে ডাকেনি। এছাড়া ওই সময়ে আমি কোনো আয়-ব্যয় কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলাম না। মাউশি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা না পেয়েই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে আমি নিয়মিত উপস্থিত ছিলাম।
মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার মূল এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। অফিসিয়ালভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন নেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা ফেরত দিতে হবে।



