গোবিন্দগঞ্জে গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সততা ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনা, আবাসিক চিকিৎসক না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা

Location :

Gaibandha
সততা ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ
সততা ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সততা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কোনো আবাসিক চিকিৎসক ছাড়াই স্টাফ, আয়া, নার্স ও বাহিরের অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা ও সিজারিয়ানের মত ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম। একারণে মাঝে মধ্যেই সেখানে নবজাতক কিংবা প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথায় অবস্থিত সততা ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান।

এসময় বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনা, আবাসিক চিকিৎসক না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

অভিযানকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাসুদার রহমান আকন্দ, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাকসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান জানান, সততা ক্লিনিকের কোনো বৈধ লাইসেন্স না থাকায় তাদেরকে অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ল্যাবসহ ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে সততা ক্লিনিকে সমিরন বেগম নামের এক গর্ভবতী নারীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবহেলার কারনে শারীরিক অবনতি হলে রোগীর স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিতে চাইলে ক্লিনিকের মালিক রেশমী ও তার স্বামী ডাবলু বাধা দেয়। তখন ক্লিনিকের স্টাফদের সাথে রোগীর লোকজনের হাতাহাতি হয়। পরে বিকালে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে রিলিজ দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় নেয়ার পথে মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলে আপস-মীমাংসার জন্য ক্লিনিকের মালিক জোর তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে সেদিন রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। কিন্তু রোববার রোগী মৃত্যুর ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায়।