ভারী বর্ষণে লোহাগাড়ায় বন্যার আশঙ্কা : প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি মানুষ

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে খাল-বিল ও নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অন্তত আটটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়েছে।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Lohagara
ভারী বর্ষণে লোহাগাড়ায় বন্যার আশঙ্কা : প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি মানুষ
ভারী বর্ষণে লোহাগাড়ায় বন্যার আশঙ্কা : প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি মানুষ |নয়া দিগন্ত

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে খাল-বিল ও নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার অন্তত আটটি ইউনিয়নের নিচু এলাকার গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা, আমিরাবাদসহ আশপাশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে দেখা যায়। অনেক এলাকায় বাড়ির আঙিনা, উঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে লোহাগাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম জানান, ‘ভারী বর্ষণের সময় একটি বড় গাছ মূল বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে মেরামতকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আগামী এক ঘণ্টার মধ্যেই মেরামতকাজ শেষ হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।’

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে সর্দানি পাড়া এলাকায় ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া হাতিয়ার খালের বাঁধ ভেঙে সিকদার পাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। উত্তর হরিনা ওঝাপাড়ায় আবদুর বারীর একটি মাটির ঘর ভারী বৃষ্টির কারণে ধসে পড়েছে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও মনিটরিং সেল

অন্যদিকে আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা বর্ষণে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। টংকাবতী খালের পানি ঢুকে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পুটিবিলা, চুনতি ও বড়হাতিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে।

জরুরি যোগাযোগের নম্বর

জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের ০১৮৭১০৯৯৬২৩, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার ০১৭৫৫৯৬৬৩৪৪ এবং আইটি টেকনিশিয়ান আরিফের ০১৮১২-৭৬০৭৮৩ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিয়নভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।