টঙ্গীতে জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি

‘মাদক বর্তমানে গাজীপুরের জন্য একটি বড় সামাজিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির জীবনেই নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে টঙ্গী এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে ছিনতাই, রাহাজানি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Tongi
জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি
জামায়াতের মাদকবিরোধী র‍্যালি |নয়া দিগন্ত

মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বানে গাজীপুরের টঙ্গীর রাজপথে মাদকবিরোধী র‍্যালি করেছে জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগর শাখা।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৭ জুন) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

র‍্যালির আগে টঙ্গীর এশিয়া পাম্প এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জিয়া উর রহমান। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর মহানগর জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজহার ইসলাম মোল্লা, নেয়ামত উল্লাহ শাকের প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাদক বর্তমানে গাজীপুরের জন্য একটি বড় সামাজিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির জীবনেই নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে টঙ্গী এলাকায় মাদককে কেন্দ্র করে ছিনতাই, রাহাজানি ও বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সুন্দর নগর গড়তে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, প্রয়োজন একটি সুস্থ, নিরাপদ ও নৈতিক সমাজ। মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা, দক্ষতা ও সমাজ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে একসাথে দায়িত্ব নিতে হবে। একইসাথে মাদকের মূল উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মাদক একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে যুবসমাজকে লক্ষ্য করে মাদকের বিস্তার একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তরুণদের কর্মসংস্থান, নৈতিক শিক্ষা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত করতে হবে।’

সমাবেশ শেষে টঙ্গীর এশিয়া পাম্প এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে র‍্যালিটি চেরাগ আলী এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা এবং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।