ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে গাজীপুরে পোশাক কারখানা ছুটি ধাপে ধাপে

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে একসাথে শ্রমিকদের সড়কে নামার চাপ কমবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
প্রতীকী ছবি

গাজীপুরে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমানো ও মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও কারখানা মালিকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তে নেয়া এ উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ছুটি দেয়া হবে বিভিন্ন শিল্পকারখানায়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এতে একসাথে শ্রমিকদের সড়কে নামার চাপ কমবে এবং ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে।

রোববার (২৪ মে) সকালে গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মো: আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সোমবার (২৫ মে) থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হবে। তিন দিন ধরে ধাপে ধাপে কারখানা বন্ধ রাখার ফলে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে না বলে আশা করছেন তারা।

বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, এপ্রিল মাসের প্রায় ৯৬ শতাংশ শ্রমিকের বেতন ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৪ শতাংশ বেতন আজ ও আগামীকালের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। এছাড়া প্রায় ২৫ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস দেয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ কারখানায় আজ ও আগামীকালের মধ্যে বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারে।

এদিকে, গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার জানান, জেলার অধিকাংশ কারখানাই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করেছে। তবে ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেডের শ্রমিকদের দুই মাসের বকেয়া এখনো পরিশোধ হয়নি। একইসাথে শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাটি ১৩(১) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়েছে, রোববার বিকেলের মধ্যেই বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

এ বিষয়ে এসপি আমজাদ হোসেন বলেন, ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেড, ট্রাউজার ল্যান্ড ও কেয়া কসমেটিকসহ কয়েকটি কারখানায় কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সেগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। ইউনিক ডিজাইনারস লিমিটেডের বকেয়া দুপুরের পর পরিশোধ হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীতে ২ হাজার ৬৭৪টি শিল্পকারখানা রয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কোনাবাড়ী-নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, চন্দ্রা হয়ে দেশের ২৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করলেও ঈদের সময় সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখে পৌঁছে যায়। ফলে যানজটের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

ওসি আরো জানান, ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বসতে দেয়া হবে না এবং রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি চন্দ্রা এলাকায় যাত্রী ওঠানামা নিয়ন্ত্রণেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে সাভার থানার অধীন বাইপাইল এলাকার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় সেখানে যানবাহনের ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।