নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর ‘আনোয়ারা মা-শিশু হাসপাতাল’র কার্যক্রম বন্ধ

৩১ মে তার স্ত্রী তীব্র পেটব্যথায় আক্রান্ত হলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরামর্শে আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। ওই রিপোর্টে কোনো সমস্যা শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসক ব্যথানাশক চিকিৎসা দেন।

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Anwara
আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার
আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার |নয়া দিগন্ত

জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তে ‘আনোয়ারায় আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ‘আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’র কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এ নির্দেশনা দেন। একইসাথে হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা রোগীদের এক ঘণ্টার মধ্যে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার এক প্রসূতি রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে কোনো জটিলতা না থাকার তথ্য দেয়া হলেও পরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় একটোপিক প্রেগন্যান্সি (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ) শনাক্ত হয়।

এ ঘটনায় রোগীর স্বামী মো: মিজানুর রহমান বুধবার (১৭ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩১ মে তার স্ত্রী তীব্র পেটব্যথায় আক্রান্ত হলে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরামর্শে আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। ওই রিপোর্টে কোনো সমস্যা শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসক ব্যথানাশক চিকিৎসা দেন।

কিন্তু রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পার্কভিউ হাসপাতাল, ইপিক হেলথ কেয়ার ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা আল্ট্রাসনোগ্রামে একটোপিক প্রেগন্যান্সি ধরা পড়ে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টির তদন্তে নামে। তদন্ত করতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করতে হাসপাতালটিতে গেলে কর্তৃপক্ষ তাদের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত নথিও উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবগত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রোগীদের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’