চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নকল করতে না দেয়ায়, পরীক্ষা শেষে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)

Location :

Bhola
চরফ্যাশন থানা, ভোলা
চরফ্যাশন থানা, ভোলা |নয়া দিগন্ত

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নকল করতে না দেয়ায়, পরীক্ষা শেষে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের কেন্দ্র সচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে এ মামলা করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘মামলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।’

গতকাল ১১ জুলাই দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রটিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছিল চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী।

গতকাল শনিবার তাদের ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা। সকালে যথারীতি পরীক্ষা শুরু হলে কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়।

এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার একপর্যায়ে কেন্দ্রটির ৩০৪ নম্বর কক্ষে পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন প্রশ্ন তাদের কমন পড়েনি। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা নকল করার চেষ্টা করলে কক্ষে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।

এরপর নকল করার সুযোগের দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা। মূলত এর পরপরই পরীক্ষার্থীরা কক্ষের শিক্ষকদের সাথে নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা শুরু করেন। পরে পরীক্ষা শেষে বেরিয়ে একদল শিক্ষার্থী একযোগ হয়ে ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

এছাড়া পরীক্ষার খাতাও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজের পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্ব পালন করা ৭ জন শিক্ষকসহ কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতিও আহত হয়েছেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল ছোড়ে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হননি।