কুষ্টিয়ায় মাদককারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশ হেফাজতে ৫ নেতা

মাদককারবারির পক্ষে সুপারিশ ও চাপ প্রয়োগের অপরাধে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

মিরপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

Location :

Kushtia
পুলিশ হেফাজতে নেয়া নেতারা
পুলিশ হেফাজতে নেয়া নেতারা |নয়া দিগন্ত

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্যসহ আটক মাদককারবারিকে ছাড়ানোর চেষ্টায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির পাঁচ নেতা।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

মিরপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আট পিস ইয়াবাসহ রমজান আলীর ছেলে মাদককারবারি রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়। তাকে থানায় এনে নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতিকালে কতিপয় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতা তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য সুপারিশ করতে আসেন।

সুপারিশকারীরা হলেন— মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার নূর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক (৪৫), একই এলাকার আলী আকবরের ছেলে ও জামায়াত নেতা মো: সুজন আলী (৩৩), মেহের আলী মালিথার ছেলে ও সদরপুর ইউনিয়নের জামায়াত মনোনীত মেম্বার প্রার্থী মো: আলাউদ্দিন (৪৩), রমজান মন্ডলের ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং মরহুম ইছাহক মালিথার ছেলে মো: সাইদুল ইসলাম (৩৯)।

তারা থানায় গিয়ে মাদককারবারি রবিউলকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। বিষয়টি থানা পুলিশ আমলে না নিলে একপর্যায়ে তদবিরকারীরা পুলিশের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ ও উচ্চবাচ্য করতে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তদবিরকারক পাঁচ নেতাকেও হেফাজতে নেয়।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাদককারবারির পক্ষে সুপারিশ ও চাপ প্রয়োগের অপরাধে তাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। রবিউলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাদকবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।