শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ড

পুলিশ আসমার চাচাতো ভাই শাহাদাতকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে শাহাদাত আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস
নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ডে রায় দিয়েছেন আদালত
নোয়াখালীতে শিশু আসমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি শাহাদাতের মৃত্যুদণ্ডে রায় দিয়েছেন আদালত |প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর চাটখিলে ৫ বছরের শিশু আসমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি শাহাদাতের (২৬) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের কার্যকর করার রায় দিয়েছেন জেলার একটি আদালত। একইসাথে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আকতার এই রায় ঘোষণা করেন।

নিহত আসমা উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো: শাহজাহানের মেয়ে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। নিখোঁজের বিষয়ে প্রথমে চাটখিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা। পুলিশ আসমার চাচাতো ভাই শাহাদাতকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে শাহাদাত আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি জানান, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন এবং লাশ সেপটিক ট্যাংকির ভেতর লুকিয়ে রাখে।

আসামির তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার নয় দিন পর তার বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে আসমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আসামি একইভাবে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উল্লেখ্য, ঘটনার পর পুরো নোয়াখালীজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট সেলিম শাহী রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেন।