গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর নামাবাজার নিশাতনগর বস্তিতে আগুনে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০টি ঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এর আগে, তিনি টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় টঙ্গীর নামাবাজার নিশাতনগর বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি বসতঘর পুড়ে যায়। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার পরিদর্শনকালে তিনি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত এবং পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলগেট নামাপাড়া এলাকায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রশাসক পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শনকালে গাসিকের কর্মকর্তারা ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম কিরণ, সাবেক দফতর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, মহানগর বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মো: আবুল হাসেম, সাবেক কাউন্সিলর সেলিম হোসেন, বিএনপি নেতা আবু শাকের, বিএনপি নেতা আজিজ জহিরুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
এ সময় প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং তাদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কথা জানান।
এর আগে, প্রশাসক টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে সড়ক দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম। অভিযানে সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে পথচারী ও যান চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।



