সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করায় অভিযোগে রংপুরের কাউনিয়ার মহুবার রহমান হিমাগার ঘেরাও করেছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার ( ১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত হিমাগারটি ঘেরাও করেন তারা।
চাষিদের অভিযোগ, আন্দোলনের পর গত ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় সারাদেশের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি কেজি আলুর মূল্য সর্বোচ্চ ছয় টাকা রাখতে পারবেন মালিকরা। কিন্তু রংপুরের অধিকাংশ মালিক সরকার নির্ধারিত ভাড়া রাখলেও কাউনিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার মালিকানাধীন মহুবার রহমান কোল্ড স্টোরেজে ছয় টাকা ৭৫ পয়সা করে প্রতি কেজি আলুর মূল্য রাখা হয়।
এনিয়ে বিকেল থেকে ব্যবসায়ী এবং আলু চাষিরা স্টোর থেকে আলু নামালেও সরকার নির্ধারিত মূল্য ছয় টাকা করে নিচ্ছেন না হিমাগার কর্তৃপক্ষ।
এখবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকার আলু চাষি এবং ব্যবসায়ীরা হিমাগারটি ঘেরাও করে রাখেন। এসময় হিমাগারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয় আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত দশটায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়। উপস্থিত হন কাউনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল। পরে মালিকপক্ষ ছয় টাকা মূল্যে রাখার অঙ্গীকার করে।
পরে হিমাগার থেকে নামানো পাঁচশো বস্তা আলু ছয় টাকা মূল্যে রিসিভ কেটে দিলে রাত ১১টার দিকে চাষি ও ব্যবসায়ীরা ঘেরাও তুলে নেন।
হিমাগারটিতে উপস্থিত কাউনিয়ার বুড়িরহাট এলাকার কৃষক মাহফুজার রহমান জানান, সরকার প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য ছয় টাকা নির্ধারণ করলেও মহুবা রহমান কোল্ডস্টোরেজ ছয় টাকা ৭৫ পয়সা নিচ্ছে। আমি ২৫০ বস্তা আলু স্টোর থেকে নামিয়েছি। ট্রাক লোড করেছি। কিন্তু হিমাগার কর্তৃপক্ষ, আমাদেরকে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপন তারা পাননি। তারা ছয় টাকা ৭৫ পয়সা কেজি ধরেই টাকা চাচ্ছেন। তারা কোনোভাবেই সরকারকে মানছিল না। তাই রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আমি ট্রাকটা ছাড়তে পারিনি।
এ ব্যাপারে মহুবার রহমান কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আজকে সারাদিনই মালিকের সাথে আমাদের একবার কথা হয়েছে। আমরা এখনো সরকারের প্রজ্ঞাপন পায়নি। মালিকপক্ষ আমাদেরকে কিছুই বলেনি। যেহেতু মালিকপক্ষ ছয় টাকা ৭৫ পয়সা হিসেবেই প্রতি বস্তা আলুর মূল্য নিতে বলেছে। এজন্য আমরা সেটাই নিচ্ছি। আমাদের করার কিছু ছিল না। ’
তবে কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করা বলে দাবি করেছেন জেলা আলু চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান।
তার অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ৩১ আগস্ট প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য ছয় টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটি পত্রপত্রিকা এবং সমস্ত জায়গায় প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির মালিকানাধীন এই মহুবার রহমান কোল্ড স্টোরের কর্তৃপক্ষ সরকারকে পরোয়া করে না। সে কারণে তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে ছয় টাকা ৭৫ পয়সা হিসেবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিচ্ছেন। আমরা খবর পেয়ে এখানে আসি। মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কোনোভাবে আমাদের সাথে নেগোসিয়েশনে আসেনি। পরে বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানাই। তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পুলিশ পাঠিয়েছেন রাত সাড়ে ১০টার দিকে।
কাউনিয়া উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অংকন পাল বলেন, ‘কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। গুদামজাত করা আলু কোল্ডস্টোরেজ ভাড়া সর্বোচ্চ ছয় টাকা নিতে হবে। সুতরাং এটি কোনো হিমাগার কর্তৃপক্ষের না জানার কথা নয়। মহুবার রহমান কোল্ডস্টোরেজ সরকারি আইন ভঙ্গ করে বেশি দরে টাকা নিচ্ছেন। আমরা অভিযোগ পেয়ে রাত ১০ টার দিকে আসি। সেখানে মালিকপক্ষের সাথে কথা বলি। তারা ছয় টাকা নির্ধারিত ভাড়া নেয়ার অঙ্গীকার করেন এবং ৫০০ বস্তা আলুর ভাড়া ছয় টাকা হারে রিসিভ কেটে দেন। সে কারণে তাদেরকে জরিমানা করা হয়নি। যারাই বেশি ভাড়া নিবেন তাদের বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



