জাল সনদে চাকরি, ২ শিক্ষকের ৪৫ লাখ টাকা ফেরত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আমরা এখনো প্রতিবেদনটি হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)

Location :

Bhola
জাল সনদে চাকরি নেয়ার ঘটনায় দুই শিক্ষকের বেতন-ভাতা ফেরত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
জাল সনদে চাকরি নেয়ার ঘটনায় দুই শিক্ষকের বেতন-ভাতা ফেরত চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় |ফাইল ছবি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দু’টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জাল ও ভুয়া কম্পিউটার সনদের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সরকারি কোষাগার থেকে তাদের উত্তোলিত মোট ৪৫ লাখ নয় হাজার ৮৫৭ টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর (ডিআইএ)।

অধিদফতরের মে মাসের পরিদর্শন প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে এই তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার চরফ্যাশন টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুলছুমবাগ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ওই দুই শিক্ষকের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তাদের নেয়া সব বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের পর গৃহীত অর্থও একইভাবে ফেরতযোগ্য বলে গণ্য হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চরফ্যাশন টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো: আলাউদ্দিনের কম্পিউটার সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত অনুযায়ী জাল ও ভুয়া হওয়ায় তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। ফলে তার গৃহীত ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪২৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই হিসাব লিপিবদ্ধ হওয়ার পর তিনি যে বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন, তাও ফেরত দিতে হবে।

একই প্রতিবেদনে কুলছুমবাগ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো: আমজাদ হোসেনের যোগদানকালীন কম্পিউটার সনদও জাল ও ভুয়া বলে মতামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তার নিয়োগও বিধিসম্মত হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০১৯ এর ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ এর ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি সরকারি কোষাগার থেকে গৃহীত ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৩০ টাকা ফেরতযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ওই সময়ের পর গৃহীত বেতন-ভাতাও ফেরত দিতে হবে।

চরফ্যাশন টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান তুহিন জানান, আমরা এখনো প্রতিবেদনটি হাতে পাইনি। প্রতিবেদন পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, তান সনদ সঠিক আছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

কুলসুমবাগ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরণ জানান, আমি প্রতিবেদনটি এখনো হাতে পাইনি, অনলাইনে সংবাদ দেখেছি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আমজাদ হোসেন জানান, তার কম্পিউটার সনদ সঠিক আছে। তিনি এখনো প্রতিবেদন হাতে পাননি। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।