বরিশাল নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের সাফল্য

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
বরিশাল নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের সাফল্য
বরিশাল নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের সাফল্য |নয়া দিগন্ত

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। সরকারের নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে কাজ করে সফল হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নগরজুড়ে একযোগে কাজ করেন ৭ শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি সড়ক ধোয়া, জীবাণুনাশক ছিটানো ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন,‘ঈদের আনন্দ যেন নগরবাসীর জন্য ভোগান্তিতে পরিণত না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। রাত ৮টার মধ্যেই নগরীর সব কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি কোনো সড়কে পশুর রক্তের দাগও দৃশ্যমান নেই।’

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে ১ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার, ৫ হাজার বিশেষ বর্জ্য সংগ্রহ ব্যাগ, ১০টি ডাম্প ট্রাক, ৩টি হুইল লোডার ও ৩টি পানিবাহী গাড়ি। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নগরীর বিভিন্ন এলাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে কাজ পরিচালনা করা হয়েছে।

সরেজমিনে নগরীর বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার সামনে গিয়ে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পানি দিয়ে সড়ক ধোয়ার পাশাপাশি ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে পরিবেশ জীবাণুমুক্ত করছেন। একই সাথে দ্রুতগতিতে বর্জ্য অপসারণ করে ট্রাকে করে নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পাবলিক রিলেশন অফিসার (পিআরও) আহসান উদ্দিন রোমেল জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরীর সব বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ঈদের আনন্দকে নির্বিঘ্ন করতে বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে ঈদের পরদিনও নগরীর স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রয়েছে।