পবিত্র ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন কামারপল্লীতে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কামার শালা গুলো এখন টুং-টাং শব্দে মুখর। কোরবানির পশু জবাই ও গোশত কাটার প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, চাপাতি, বটি ও কুড়াল তৈরিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা।
শনিবার (২৩ মে) বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বোনারপাড়া, কচুয়া, উল্ল্যা, সোনাতলা ও ভরতখালী এলাকায় ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কাজের চাপ।
আগামী ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন কামার পল্লী গুলোতে। কেউ পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে আসছেন, আবার কেউ নতুন সরঞ্জাম তৈরি করাচ্ছেন। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপ, হাপরের বাতাস আর হাতুড়ির আঘাতে সরগরম হয়ে উঠেছে কামার শালাগুলো। পুরো পরিবেশ জুড়ে যেন ফিরে এসেছে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এক চিরচেনা ঐতিহ্য।
কামার শিল্পীরা জানায়, ধান কাটার মৌসুম চলায় শ্রমিক সঙ্কটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশি মজুরি দিয়েও পর্যাপ্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত পরিশ্রম করেই অর্ডার সামাল দিতে হচ্ছে তাদের।
কামার শিল্পী শিবু বিশ্বাস বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে দা, ছুরি ও চাপাতির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তারপরও সব অর্ডার সময়মতো দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
বোনারপাড়া বাজারের কামার পরিমল বৈরাগী বলেন, ‘ঈদ সামনে আসায় এখন কাজের প্রচণ্ড চাপ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। লোহা ও কয়লার দাম বাড়লেও গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি।’
ভুতমাড়া গ্রামের শ্রী রতন বলেন, ‘মানুষ নতুন দা-ছুরি তৈরির পাশাপাশি পুরোনো সরঞ্জামেও শান দিতে আসছেন। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরেই আমাদের আয় কিছুটা বাড়ে।’
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস নয়া দিগন্তকে জানান, ঈদকে ঘিরে কামার শিল্পীদের কাজের চাপ ও চাহিদা বেড়ে যায়। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে অর্থায়ন প্রয়োজন।
তিনি আরো জানান, কামার শিল্প সম্প্রসারণে বিসিক জেলার বিভিন্ন উপজেলার কামারদের মধ্যে ঋণ প্রদান করেছে।



