ময়মনসিংহ নগরীতে পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে রানা মিয়া (৩৩) নামে এক বিএনপিকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নিহত রানা স্থানীয় বিএনপির সক্রিয় কর্মী এবং মরহুম শরাফ উদ্দিনের ছেলে।
গ্রেফতাররা হলেন মাহমুদুল ইসলাম মাহিন (২০), তোফাজ্জল হোসেন (৪০), হুমায়ুন কবীর আকাশ (২৩) ও মনিরুল ইসলাম (২৪)। তারা সবাই চর ঈশ্বরদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ তাদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোফাজ্জল হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় মো: মফিদুল ইসলাম মাস্টারকে (৫৫)। এজাহারে তার ছেলে মো: ফাহিম হাসানের (২৫) নামও রয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে মফিদুল ইসলামের পরিবারের সাথে রানার পরিবারের বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, যার জেরে মঙ্গলবার বিকেলে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে রানাকে লক্ষ্য করে লোহার রড ও শাবল দিয়ে বেধড়ক আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রানাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়িসহ অন্তত ১২টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং একটি খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) খোরশেদ আলম জানান, এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



