নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নুরুদ্দিন হাওলাদার (৩২) নামে এক নির্মাণকাজের ঠিকাদারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তবে, হামলার ঘটনায় শনিবার (১৬ মে) রাতে সোনারগাঁও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিহত নুরুদ্দিন হাওলাদার ভোলা জেলার সদর উপজেলা পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের মালেরহাট গ্রামের সেলিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা নিউটাউন আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে নির্মাণকাজের ঠিকাদারি করতেন। স্ত্রী ও সাড়ে তিন মাস বয়সী এক ছেলেসন্তান রয়েছে তার।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের গঙ্গানগর এলাকার আব্দুর রবের বাড়ির নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন নুরুদ্দিন। কাজ শেষ হলেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে উল্টো তাকে আরো কাজ করার জন্য চাপ দেয়া হতো। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় নুরুদ্দিনকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের স্ত্রী মাইমুনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী কয়েকবার পাওনা টাকা চাইতে গেলে ওরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় হুমকিও দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে জাহিদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান শুভ বাসায় এসে আমার স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাস্তায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা চালায় তারা। এ সময় তারা আমার স্বামীকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাই মিজান রহমান বলেন, আব্দুর রব ও তার দুই ছেলে মোটরসাইকেলে করে এসে নুরুদ্দিনকে বাসা থেকে ডেকে রাস্তায় নিয়ে যায়। সেখানে তর্ক শুরু হলে আব্দুর রবের ছেলে জাহিদ হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে আমার ভাইকে আহত করে। একটি আঘাত সরাসরি তার বুকে লাগে।
মিজান আরো বলেন, আমি সাত তলা থেকে নিচে নামতে নামতেই তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভাইকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে আজ রোববার ভোরে তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই নুরুদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনে-দুপুরে জনসম্মুখে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



