ত্রিশালে জাতীয় নজরুলজয়ন্তী, আজ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

দুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
আজ উদ্বোধন জাতীয় নজরুলজয়ন্তী
আজ উদ্বোধন জাতীয় নজরুলজয়ন্তী |ফাইল ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আবারো ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নজরুলজয়ন্তী।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৬ সালে ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুলজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছিল। এরপর নানা দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের পরও জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন আর হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ত্রিশালেই জাতীয় আয়োজন ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ত্রিশাল সরকারি নজরুল অ্যাকাডেমি মাঠ (সাবেক দরিরামপুর হাইস্কুল) প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ত্রিশালের বৈলর এলাকায় ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জন্মোৎসব উদ্বোধন শেষে বিকেলে তিনি ত্রিশাল নজরুল মিলনায়তনে ময়মনসিংহ জেলা উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো: সাইফুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয়ভাবে আয়োজিত এই জন্মোৎসবকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অতিথি আপ্যায়নে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ঐতিহাসিকভাবে ত্রিশালের সাথে কবি নজরুলের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। ভারতের আসানসোল থেকে দারোগা রফিজ উল্লাহ কবিকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিয়ে আসেন। ১৯১৪ সালের জুন থেকে ১৯১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এখানে অবস্থান করেন। সে সময় তাকে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় দরিরামপুর হাইস্কুলে (বর্তমান নজরুল অ্যাকাডেমি)। পরবর্তীতে যাতায়াতের সুবিধার্থে তাকে নামাপাড়ার বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে জায়গির রাখা হয়।

অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ত্রিশাল ছেড়ে গেলেও কবির স্মৃতি আজও অমলিন হয়ে আছে এ জনপদে। তাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও স্মৃতিচিহ্ন। ২০০৮ সালে কাজীর শিমলা দারোগাবাড়ি ও বিচুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দু’টি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র, যা পরিচালনা করছে নজরুল ইনস্টিটিউট।

দীর্ঘ বিরতির পর ত্রিশালে জাতীয়ভাবে নজরুলজয়ন্তী আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এ উৎসব নতুন করে কবির চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে দেশব্যাপী।