বাঁশখালীর বেড়িবাঁধে আবারো ভাঙন, আতঙ্কে উপকূলের হাজারও পরিবার

বেড়িবাঁধ এই এলাকার জনগণের জন্য দুঃখ হলেও সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের জন্য আশীর্বাদ। বেড়িবাঁধের কল্যাণে বারবার বরাদ্দ আসে আর তারা লুটপাট করতে পারে।

Location :

Chattogram
বেড়িবাঁধে ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে উপকূলের হাজারও পরিবার
বেড়িবাঁধে ভাঙন অব্যাহত, আতঙ্কে উপকূলের হাজারও পরিবার |নয়া দিগন্ত

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

টানা ভারী বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রভাবে বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধের খানখানাবাদ ইউনিয়নের রোসাঙ্গী পাড়া এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন আগে থেকে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভাঙনের আকার ক্রমশ বাড়ছে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের প্রভাবে যেকোনো সময় বাঁধটি ভেঙে এলাকাটি তলিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে স্থানীয় অন্তত ৩০ হাজার মানুষ বাঁধ ভাঙন আতঙ্কে দিনানিপাত করছেন। বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করলে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ির পাশাপাশি কৃষিজমি, মৎস্য প্রজেক্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার ও সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষার মেগা প্রকল্পের একটি কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। যার ব্যয় সাড়ে চার শ’ কোটি টাকার অধিক। এর আগেও ২৯৩ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে এই বেড়িবাঁধে। সরকার বারবার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার জনগণের দুঃখের অবসান হয় না। নিম্নমানের কাজ, দুর্নীতির কারণে বেড়িবাঁধ টেকসই হয় না বলে স্থানীয়দের দাবি।

তারা বলেন, বেড়িবাঁধ এই এলাকার জনগণের জন্য দুঃখ হলেও সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের জন্য আশীর্বাদ। বেড়িবাঁধের কল্যাণে বারবার বরাদ্দ আসে আর তারা লুটপাট করতে পারে। আর কয়েক বছর পর পর স্বজন বা সম্পত্তি হারিয়ে আমাদেরকে এখানে জন্ম নেয়ার মাশুল দিতে হয়।

অন্যদিকে গত শনিবার (৪ জুলাই) থেকে টানা ভারী বর্ষণে উপজেলার প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আগের পাহাড়ি ঢলের পানিতে ছড়া, খালের বাঁধ ভেঙে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখেরখীল, ছনুয়া, পুঁইছড়ি, সরল, চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

ভাঙনের ব্যাপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, খানখানাবাদের ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই) থেকেই জিওব্যাগ ফেলা হবে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন জানান, খানখানাবাদে বেড়িবাঁধের ভাঙনরোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভারী বর্ষণে উপজেলার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যাবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক অবস্থা মনিটরিং করে জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।