রংপুরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ছয় লেনের মহাসড়কে আলু ঢেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১২টা থেকে নগরীর মডার্ন মোড়ের তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে ছয় লেনের রাস্তায় অবরোধ গড়ে তোলেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী। তারা মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর আগে সড়কের অটোর লেনে তারা মানববন্ধন করে।
এ সময় তারা অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।
অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ, জেলা কৃষকদল সভাপতি আনোয়ার সাদতের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা।
অবরোধের কারণে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।
মানববন্ধনে জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহ-সভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিব আদিল মেরাজুল দুলু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
পরে, বেলা একটার দিকে পরদিন বৃহস্পতিবার রংপুরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সাথে বৈঠক করা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
এ সময় আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজির আলুর বস্তা জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।
তিনি অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সেই কারণেই রংপুর বিভাগের হিমাগারগুলোতে প্রতিবছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ, মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর হিমাগার ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে, রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হিমাগার সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবিতে বৃহস্পতিবার ডিসির সাথে আলাপ আলোচনা করার পর সমাধান না হলে লাগাতার অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যাব আমরা।
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ছয় টাকা ৭৫ পয়সার পরিবর্তে আমরা ছয় টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি।
তিনি বলেন, যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়া যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ছয় টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিককেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে অবরোধ করেছিলেন। বেলা একটার দিকে তারা অবরোধ স্থগিত করেন। দেড়টার মধ্যে আমরা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করি।



