মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির অভিযান

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাইন আইইডি ও দাহ্য রাসায়নিক জব্দ

শুক্রবার রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Location :

Naikhongchhari
নাইক্ষ্যংছড়িতে উদ্ধার দাহ্য রাসায়নিক
নাইক্ষ্যংছড়িতে উদ্ধার দাহ্য রাসায়নিক |সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) শনাক্ত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিনে পৃথক অভিযানে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থও জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে টারগুপাড়া সীমান্তে সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবি টহলদল।

অভিযানকালে ৪-৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা কয়েকটি ব্যাগ ফেলে পাশের পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাদ্যসামগ্রী, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং কিছু পোশাক উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বোম নিষ্ক্রিয়করণ দল মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় আইইডি ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ চোরাচালানের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুরে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল উদ্ধার করে।

উদ্ধারকৃত রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।