রংপুর ব্যুরো
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের অভিযোগ করেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে এবং মানুষের জানমাল ও সম্মানের কোনো নিরাপত্তা নেই।
সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে রংপুরের পল্লীনিবাসে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির ও আজমল হোসেন লেবু, যুগ্ম মহাসচিব হাজী আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন, হাসানুজ্জামান নাজিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
জিএম কাদের বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মানুষের জানমাল ও সম্মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। যেখানে-সেখানে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণে আবারও আন্দোলনে নামতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতা প্রমাণ করে দেশে এখনো বৈষম্য দূর হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে নানা কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলন হয়েছিল, জনগণ এখনো সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন দেখতে পায়নি।
সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দলকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দলকে আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংহত করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে আবারও দেশের রাজনীতিতে কার্যকর শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে জাতীয় পার্টি আন্তরিক। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আলোচনা সভায় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এরশাদের শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



